ই-বুকে মূসক অব্যাহতি, রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট ফিরেছে আগের অবস্থায়

রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাটের পরিমাণ আগের অবস্থায় অর্থাৎ ৫ শতাংশে ফেরানো হয়েছে।

রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাটের পরিমাণ আগের অবস্থায় অর্থাৎ ৫ শতাংশে ফেরানো হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (মূসক নীতি) মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী গতকাল এ কথা জানান। একসঙ্গে তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার ই-বুকের স্থানীয় সরবরাহ ও আমদানি পর্যায়ে সমুদয় মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট অব্যাহতি দিয়ে গতকাল প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর।

মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘রেস্তোরাঁ খাতে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের যে সিদ্ধান্ত ছিল সেখান থেকে সরকার সরে আগের অবস্থায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে আগামী রোববার আদেশ জারি হতে পারে।’

এদিকে, গতকাল এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব ব্যারিস্টার মো. বদরুজ্জামান মুন্সী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যেহেতু বাংলাদেশে সব পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বইয়ের সহজলভ্যতা, আধুনিক ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ই-বুক সেবা সর্বজনীন ও সহজলভ্য করা একান্ত প্রয়োজন; সেহেতু আধুনিক ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ই-বুক সেবা সর্বজনীন ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ (২০১২ সালের ৪৭ নং আইন)-এর ধারা ১২৬-এর উপধারায় (৩) প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, শুধু ই-বুক সেবার (সংবাদপত্র, পত্রিকা, সাময়িকী ও জার্নাল ব্যতীত) ক্ষেত্রে আমদানি ও সরবরাহ পর্যায়ে আরোপনীয় মূল্য সংযোজন কর থেকে অব্যাহতি প্রদান করেছে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার কথাও বলা হয় প্রজ্ঞাপনে।

এর আগে গত বুধবার এনবিআরের ভ্যাট পলিসি বিভাগের প্রথম সচিব মো. মশিউর রহমানের সই করা একটি চিঠি বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতিতে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, ‘রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ খাতের ভ্যাট হার পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’ এতদিন রেস্তোরাঁর ভ্যাট ছিল ৫ শতাংশ। ৯ জানুয়ারি এটি তিন গুণ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। সব মিলিয়ে শতাধিক পণ্য ও সেবায় ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, ব্যবসায়ীরাও আন্দোলনে নামার হুমকি দেন। গতকাল সকালে ভ্যাট ও সম্পূরক কর প্রত্যাহারের দাবিতে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে রেস্তোরাঁ ও হোটেল মালিক-কর্মচারীরা। এ সময় তারা ভ্যাট কমানোর দাবি সংবলিত বিভিন্ন ধরনের ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

আরও